চলতি ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় চাহিদা দাঁড়াবে ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে তা হবে দৈনিক ১০ কোটি ৬৩ লাখ ব্যারেল। ২০৩০ সালে পণ্যটির দৈনিক গড় চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে। সে অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির গড় চাহিদা বাড়বে বর্তমানের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) ‘২০২৫ ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুক’ শীর্ষক গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়।
ওপেকের এ বার্ষিক প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে আগেকার (২০২৪ সালের) প্রক্ষেপণ সংশোধন করে কমিয়ে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে এসেছে। এছাড়া দেশটিতে এখন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে চীনে সামনের বছরগুলোয় জ্বালানি তেলের চাহিদা যে গতিতে বাড়বে বলে আগে প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল, এখন সেটিকে সংশোধন করে কমিয়ে আনা হয়েছে।
চীনে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে এলেও সামনের বছরগুলোয় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকবে বলে মনে করছে ওপেক। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে পণ্যটির ব্যবহারও ক্রমান্বয়ে বাড়বে। এছাড়া কভিড মহামারীর ধাক্কা অতিক্রম করে এরই মধ্যে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদাও পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে ওপেকের প্রতিবেদনে উঠে আসে।
ওপেকের প্রতিবেদনে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চার বছরের চাহিদা পূর্বাভাস সংশোধন করা হলেও ২০৩০ সালের ক্ষেত্রে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ওই বছর পণ্যটির দৈনিক গড় চাহিদা দাঁড়াবে ১১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পণ্যটির দৈনিক চাহিদা পৌঁছবে ১২ কোটি ২৯ লাখ ব্যারেলে। গত বছরের প্রতিবেদনে ২০৫০ সালে এ চাহিদার পরিমাণ ১২ কোটি ১ লাখ ব্যারেল হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছিল ওপেক।
ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল ঘাইস প্রতিবেদনটির ভূমিকায় বলেন, ‘এখনো জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এটি এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তি ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
সংস্থাটির ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতে পণ্যটির চাহিদা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল অঞ্চল। এছাড়া ইউরোপে ইভির বাজার প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার মতো বিষয়ও নবায়নযোগ্য খাতে জ্বালানির রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে।
প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বে মোট ১৮ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন বা ১৮ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
ওপেকের প্রতিবেদনে আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হলেও এর বিপরীত বক্তব্য দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সংস্থাটির গত মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৯ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা সামান্য মাত্রায় কমতে পারে।